1. admin@dailyjolchap.com : admin :
  2. mirajrana10@gmail.com : Rana Miraj : Rana Miraj
  3. shemanthochandaa@gmail.com : shemanth shemanthochandaa : shemanth shemanthochandaa
তেল ফসল ‘পেরিলা’য় অপার সম্ভাবনা - ডেইলি জলছাপ
শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা ছাড়েন ১ কোটি ৫ লাখ সিমধারী, ফিরেছেন ৮ লাখ কাল থেকে কঠোর লকডাউন, আগের চেয়ে কঠোরভাবে পালিত হবে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ‘পবিত্র ঈদুল আয্হা উপলক্ষ্যে সর্বস্তরের সকলকে শুভেচ্ছা জানান:- সাজেদুল হক চৌধুরী দিপু ‘পবিত্র ঈদুল আয্হা উপলক্ষ্যে সর্বস্তরের সকলকে শুভেচ্ছা জানান:- শামসুল হক চৌধুরী বাবুল করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীরর বিশেষ উপহার পেল বাসাইলের ৭০০ পরিবার ১৪ বছর পরে নৌকা ছেড়ে ঘরে উঠছেন শর্তবয়সি গোলাপী বেগম   মতলব উত্তরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর বর্তমান এমপি রুহুলের সমর্থকদের হামলা। সারাদেশে ১৪ দিনের পূর্ণ ‘শাটডাউনের’ সুপারিশ টাংগাইলের নাগরপুরে স্ত্রী সন্তানের বিরুদ্ধে স্বামীর মামলা মতলব উত্তরে গৃহবধুর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

তেল ফসল ‘পেরিলা’য় অপার সম্ভাবনা

  • সময় : শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১
  • ১০৭ বার পঠিত

 

 

তেল ফসল ‘পেরিলা’য় অপার সম্ভাবনা

পেরিলা বাংলাদেশে অভিযোজিত একটি নতুন ভোজ্য তৈল ফসল। ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি শেরেবাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের অনুকূলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক সাউ পেরিলা-১ (গোল্ডেন পেরিলা বিডি) নামে বাংলাদেশে প্রথম পেরিলার একটি জাত নিবন্ধিত হয়। মূলত এটি দক্ষিণ কোরিয়ার জাত; যা কোরিয়ান পেরিলা নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম চবৎরষষধ ভৎঁঃবংপবহং (খ.) ইৎরঃঃড়হ এবং এটি খধসরধপবধব (গরহঃ) পরিবারভুক্ত। পেরিলা তেল দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে ব্যবহার করা হয়। পেরিলা তেলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছেÑ এটি উচ্চ মাত্রার ৫০-৬০ শতাংশ ওমেগা-৩ এবং ফ্যাটি অ্যাসিড বা লিনোলিনিক অ্যাসিড-সমৃদ্ধ ও ২২-২৩ শতাংশ ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড বা লিনোলিক অ্যাসিড এবং ক্ষতিকারক ইরোসিক অ্যাসিডমুক্ত। এ তেলের ৯২ শতাংশই অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড-সমৃদ্ধ হওয়ায় পেরিলা তেল মানবশরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। হৃদরোগ এবং উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি কমাতে এই তেলের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে।

 

 

বাংলাদেশে বার্ষিক ভোজ্য তেলের গড় চাহিদা প্রায় ২.২ মিলিয়ন টন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২.০ থেকে ২.৬ মিলিয়ন টন ক্রুড সয়াবিন তেল এবং পামওয়েল আমদানি করা হয়। এ ছাড়া সরিষা, সূর্যমুখী, রাইস বার্ন ওয়েলসহ অন্যান্য ভোজ্য তেল আমদানি করা হয় (দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ৬ জানুয়ারি ২০২১)। বাংলাদেশে প্রচলিত যেসব তৈল ফসল রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সরিষা, তিল, তিসি, বাদাম ইত্যাদি। এসব তেল ফসল হতে নিজস্ব চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ করে থাকে। বাংলাদেশে তেল ফসলের মধ্যে তিল ছাড়া অন্য ফসলগুলো রবি মৌসুম বা শীতকালে হয়ে থাকে। রবি মৌসুমে আমাদের দেশে মোট খাদ্য উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে। যার প্রধান হলো বোরো ধান এবং অন্যান্য শীতকালীন ফসল। রবি মৌসুমে আন্তফসলের প্রতিযোগিতার জন্য চাইলেও তেল ফসলের জমি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

 

পেরিলা মূলত বাংলাদেশে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষাকালে বন্যার পানি জমে নাÑ এমন যেকোনো জমির জন্য অভিযোজিত। এর জীবনকাল ১০০-১০৫ দিন (বীজতলা ২৫-৩০ দিন এবং মূল জমি ৭০-৭৫ দিন)। এর হেক্টর প্রতি ফলন ১৩.-১.৫ টন। পেরিলাবীজে তেলের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ। বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লাখ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ হয়। আউশ ধান কর্তন করার পর এর বেশির ভাগ জমি প্রায় আড়াই মাস পতিত থাকে। এরপর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সরিষা বপন করা শুরু হয়। মূল জমিতে পেরিলার জীবনকাল মাত্র ৭০-৭৫ দিন হওয়ায় সহজেই এর বেশির ভাগ জমিতে সরিষা লাগানোর পূর্বে পেরিলা রোপণ করে কর্তন করা যায় (বীজতলা হতে চারা রোপণের সময় ১৫-২৫ আগস্ট এবং কর্তন সময় ৩০ অক্টোবর-০৫ নভেম্বর)। লবণসহনশীল হওয়ায় উপকূলীয় বন্যামুক্ত পতিত জমি সহজেই পেরিলার আওতায় আনা সম্ভব। এ ছাড়া আমন ধান হয় এমন উঁচু জমি যেখানে সম্পূরক সেচের প্রয়োজন হয় এবং খরচ অপেক্ষাকৃত বেশি সেসব জমি পেরিলার আওতায় নিয়ে এলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। খরিফ-২ মৌসুমে পেরিলার উৎপাদন মৌসুম হওয়ায় জমিতে কোনো প্রকার সেচের প্রয়োজন হয় না।

 

বাংলাদেশে একটি সামর্থ্যবান বড় ভোক্তা শ্রেণি রয়েছেন যারা দেশের বাইরে থেকে আগত অলিভ তেল, ক্যানোলা তেল, সূর্যমুখী তেল খেয়ে থাকেন। এগুলোর বাজারমূল্যও অনেক বেশি। পেরিলা তেলের আবাদ যদি বাংলাদেশে বাড়ানো যায়, তাহলে সামর্থ্যবান ভোক্তা শ্রেণির মধ্যে এই উচ্চ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড-সমৃদ্ধ পেরিলা তেলে আগ্রহ সৃষ্টি করা যেতে পারে। এতে দেশের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষকও তার ফসল অধিক লাভে বিক্রি করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে শিক্ষিত বেকার যুবক শ্রেণি যারা রয়েছেন তাদের পেরিলা ফসলের চাষ এবং তেলের ব্যবসায় স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া পেরিলার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর বাজারজাতকরণে ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীদের সন্তোষজনক মুনাফা লাভের সুযোগ রয়েছে। পেরিলা তেল ক্রুড বা রিফাইন ছাড়া খাওয়া যায়। ফলে কৃষক বা গ্রামের সাধারণ জনগণ দেশে প্রচলিত যন্ত্র থেকে সহজেই পেরিলাবীজ হতে তেল আরোহণ করে খেতে পারবেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে পেরিলা চাষের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে উচ্চ গুণাগুণ-সমৃদ্ধ পেরিলা তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

 

লেখক : উপজেলা কৃষি অফিসার

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা

 

kaioumbaudae27@gmail.com

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 Daily Jolchap আমাদের এখান থেকে কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং আমাদের এখানে প্রচারিত সংবাদ সম্পূর্ণ আমাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া। প্রকার মিথ্যা নিউজ হলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না সম্পূর্ণ দায়ী থাকিবে নিউজ পেরন কারী সাংবাদিক  
Theme Customized By BreakingNews
Shares